Header Ads

মুসলিম মিল্লাতের প্রতি আ'লা হযরত ইমাম আহমদ রেযা খান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)'র উদাত্ত আহ্বান


মুসলিম মিল্লাতের প্রতি আ'লা হযরত ইমাম আহমদ রেযা খান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু)'র উদাত্ত আহ্বান


প্রকৃত ও বাস্তব ঈমানের জন্য দুটি বিষয় অপরিহার্য। 

১. হযরত মুহাম্মদ রাসুলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর তা'যীম এবং 

২. মুহাম্মদ রাসূলাল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর মুহাব্বত সমগ্র জাহানের চাইতেও বেশী হওয়া।


দুটি বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার জন্য স্পষ্ট পদ্ধতি হচ্ছে, আপনাদের কারো সাথে যেরূপই সম্মান, যতই শ্রদ্ধা, যতই ভক্তি বিশ্বাস, যতই বন্ধুত্ব, যতই মুহাব্বতের সম্পর্ক হোক, যেমন নিজ পিতা, স্বীয় ওস্তাদ কিংবা পীর, আপন সন্তান, নিজের ভাই, বন্ধু, মুরব্বী, সঙ্গী, আপনাদের মৌলভী হাফেজ, মুফতী, বক্তা ইত্যাদি ইত্যাদি যেই হোক না কেন, যখনই সে রাসুলে পাক (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর শানে বেয়াদবী করবে, তখন আপনাদের অন্তরে মোটেই তার ইয্যত, তার মুহাব্বত, মায়া মমতার নাম-নিশানাও যেন না থাকে, তৎক্ষনাত তার থেকে পৃথক হয়ে যান। তাকে 'দুধ থেকে মাছি'র মত (অন্তর থেকে) বের করে ছুঁড়ে ফেলুন। তার চেহারা কি নামকেও ঘৃণা করুন। এরপর না নিজ আত্মীয়তা, সম্পর্ক, বন্ধুত্ব, ভালবাসার প্রতি লক্ষ্য করবেন, না তার মৌলভীত্ব, পীরগীরি, বুযুর্গী বা মর্যাদার কোন গুরুত্ব দেবেন। সর্বোপরি এ সব যা ছিল প্রিয়নবী হযরত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)'রই গোলামীর ভিত্তিতে বিদ্যমান ছিল। যখন এ ব্যক্তি তাঁরই (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) শানে গোস্তাখ হয়ে গেল, তবে তার সাথে আমাদের আর কী সম্পর্ক রইল? তার জুব্বা, পাগড়ীতে কীইবা আসে যায়? কীসেরই বা যোগাযোগ রইল? অনেক ইহুদীরাও জুব্বা পরে না ও পাগড়ী বাঁধে না? বহু দার্শনিকও কি বড় বড় উচ্চাঙ্গের বিষয় ও ইলম্ জানত না? যদি তা না হয়; বরং প্রিয় নবীর মোকাবিলায় আপনারা তার কথাই মানতে চান, সে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)'র সাথে বেয়াদবী করল অথচ আপনারা বিষয়টি আমলে আনলেন না, অথবা আপনাদের মনে তার উপর চরম ঘৃণার উদ্রেক হল না, তবে আল্লাহর ওয়াস্তে আপনারাই ইনসাফ করুন যে, ঈমানের পরীক্ষায় কোথায় পাশ করলেন? কুরআন ও হাদীস যা ঈমান অর্জিত হওয়ার ভিত্তি সাব্যস্ত করেছে, তা থেকে আপনারা কতদূর সরে গেলেন?


হে মুসলিম মিল্লাত! যার অন্তরে মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)'র তা'যীম থাকবে, সে কি তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রতি কটুক্তিকারীকে সমীহ করতে পারে? যদিও সে তাঁর পীর বা ওস্তাদ কিংবা পিতা ও হোক না কেন? যার কাছে প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সমগ্র জাহানের চাইতেও প্রিয় হবে, সে কি তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রতি ধৃষ্টতাকারীকে তৎক্ষনাত চরমভাবে ঘৃণা করবে না? যদিও সে তার বন্ধু অথবা ভাই কিংবা পুত্রও হোক না কেন? দোহাই আল্লাহর! নিজ অবস্থার উপর রহম করুন! --


তামহীদে ঈমান ৬-৭ (লাহোর থেকে প্রকাশিত)

কোন মন্তব্য নেই

Roofoo থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.